দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সারা দেশে ২৫১ জন গুম হওয়ার ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
তিনি বলেছেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা একে একে জবানবন্দি দিচ্ছেন। তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তৎপরতার ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর। এর আগে গুমের শিকার ৫৫ জনের পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে বৈঠক করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের ঘটনাগুলোকে ‘ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেম্যাটিক অ্যাটাক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে পারস্পরিক মিল থাকায় এগুলোকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের শিকার ২৫১ জন, যারা এখন পর্যন্ত ফেরত আসেননি, তাদের পেছনে একই ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা প্রায় ঘুরেফিরে পাওয়া যাচ্ছে।’
গুমের তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিছু অপরাধীর তৎপরতা বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘গুমের এসব ঘটনা নিয়ে যখনই তদন্ত শুরু হয়েছে, তখনই কিছু কিছু অপরাধীর তৎপরতাও বেড়েছে। তাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকতে হবে।’
গুমের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, যারা সাক্ষ্য দিচ্ছেন বা ভবিষ্যতে দেবেন, তারা যেন কোনোভাবে হুমকি, হামলা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আসামি হিসেবে আমরা যাদের চিহ্নিত করছি, তাদের তৎপরতা আমরা লক্ষ্য করছি। তারা দেশে হোক বা ট্রাইব্যুনালের বাইরে-ভেতরে, আসামিদের আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে কিংবা গুম পরিবারের কোনো সদস্যের ওপর যেন কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক।’
গুমের তদন্ত আগের তুলনায় অনেক বেশি গতিশীল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জবানবন্দি গ্রহণসহ তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ কারণে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকারকে নজর রাখতে হবে।
গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা টার্গেটের শিকার হতে পারেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা সতর্ক রয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা তাদের মতো করে যে কোনো সময় আমাদের ছোবল মারতে পারে। এ কারণে আমরা যেমন সচেতন আছি, সরকারকেও একইভাবে সচেতন থাকতে হবে।’
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে জানিয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তদন্ত যেন কোনোভাবে ব্যাহত না হয় এবং কোনো ধরনের নাশকতা বা বাধা সৃষ্টি করা না যায়, সে বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে কাজ করা হচ্ছে।
সরকারের কাছে নতুন করে সহায়তা চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক করা হয়েছে।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘কিছু কিছু আসামির গতিবিধি ও তৎপরতা আমাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। আমাদের কাছে গোপন তথ্য আছে যে, তারা যে কোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারে। এসব কিছু বিচার-বিশ্লেষণ করেই আমরা কাজ করছি।’
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগের কথাও জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, ‘গুম প্রতিরোধ এবং প্রতিকার আইন’ নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এর মাধ্যমে সারা দেশে সংঘটিত গুমের বিচার আরও গতিশীল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা অত্যন্ত শক্তিশালী ও দুষ্কৃতকারী। বিষয়টি মাথায় রেখেই তদন্তকারী সংস্থা ও প্রসিকিউশন যেমন সতর্ক রয়েছে, তেমনি গুমের শিকার পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘গুমের এসব তদন্ত আমরা খুব দ্রুততার সঙ্গে শেষ করে বিচারের সম্মুখীন করব।’
ট্রাইব্যুনালে সম্ভাব্য নাশকতা বা স্যাবোটাজের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, রোববার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তাদের নজরে এসেছে। ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ও বাইরের সব কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, তাহলে এটি তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে।’
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, ‘কেউ যদি এমন কোনো দুষ্ট চিন্তা মনে রাখেন বা অন্য কোনো বিষয়ে চিন্তা করেন, এটি তাদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।’
তিনি জানান, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ও বিচারপ্রক্রিয়া যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক রাখা হয়েছে।
এমএম/